সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

গর্ভাবস’ায় হেপাটাইটিস

ভাইরাসের সৃষ্ট প্রদাহে লিভারের কোষগুলো স্ফীত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতা হারায়। ফলে লিভারে বিলিরুবিনের শোধন হয় না, অপরিশোধিত বিলিরুবিনের শোধন হয় না, অপরিশোধিত বিলিরুবিন রক্তে জমে যায়। তা ছাড়া বাইল বা পিত্ত নিঃসরণও বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পরিশোধিত বিলিরুবিনও শরীর থেকে বেরিয়ে না গিয়ে রক্তে জমে যায়।

গর্ভাবস’ায় লিভারের অন্য কোনো রোগ বা পিত্তনালীতে স্টোন
গর্ভাবস’ায় টক্সিমিয়া অর্থাৎ শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে যাওয়া
গর্ভাবস’ায় অতিরিক্ত বমি
লিভারের ক্ষতি করে এমন ওষুধ না খাওয়া বা জীবাণুমুক্ত পানি গর্ভবতী মাকে খেতে হয়
গর্ভাবস’ায় রক্তের কোনো অসুখ যেমন থ্যালাসেমিয়া- এতে রক্তকণিকা সহজে ভেঙে যায় এবং বিলিরুবিন রক্তে জমে জন্ডিস দেখা দেয়।

কোনো কারণে মাকে যদি ব্লাড ট্রান্সফিউশন নিতে হয় তাহলেও জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
গর্ভাবস’ায় জন্ডিস কেন বিপজ্জনক : গর্ভাবস’ায় লিভারের কাজ অনেক বেড়ে যায়। মার খাবার থেকে উপযুক্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট তৈরি ছাড়াও ভ্রূণ শিশু ও প্ল্যাসেন্টা বা ফুলের থেকে বের হওয়া দূষিত বর্জ্য পদার্থ পরিশোধন ও পরিবর্তন করার কাজ লিভারের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। মার অ্যানিমিয়া অর্থ বা উপযোগী প্রোটিনের অভাবে লিভারের কোষগুলো ঠিকমতো কাজ করে উঠতে পারে না। এ সময়ে ভাইরাল হেপাটাইটিস খাদ্যাভাবে দুর্বল লিভারের কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

গর্ভাবস’ায় জন্ডিসের প্রকোপ বেড়ে রক্তে খুব বেশি বিলিরুবিন জমে যায়। পরে লিভারের কোষের বিশেষ ক্ষতির ফলে মার মানসিক চেতনা প্রায় লুপ্ত হয়ে আচ্ছন্নভাব এবং কোমা হতে পারে, যাতে প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে। এ ছাড়া গর্ভাবস’ায় জন্ডিসে লিভারের কোষে রক্ত জমাট বাঁধার পক্ষে জরুরি ‘প্রোথ্রম্বিন’ সৃষ্টি ব্যাহত হয়। এতে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং শিশুর জন্ম দেয়ার অব্যবহিত পরে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বা মায়ের প্রাণনাশের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া হেপাটাইটিস ‘বি’ গর্ভবতী মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে আসতেও পারে।

লেখিকা : ডা: নাহিদ ফারজানা, দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ।