সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

গর্ভকালীন রক্তশূন্যতা

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে চলে গেলে তখন তাকে রক্তশূন্যতা বলা হয়। গর্ভাবস’ায় মায়েদের রক্তশূন্যতা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। স্বাভাবিকভাবে গর্ভকালীন মায়ের দেহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য শরীর বৃত্তীয় রক্তশূন্যতা হতে পারে। তবে আমাদের দেশের গর্ভবর্তী মায়েদের এক বিশাল অংশের রক্তশূন্যতার কারণ হলো লৌহের অভাব। যাকে বলে লৌহের অভাবঘটিত রক্তশূন্যতা।

লৌহের অভাবের কারণ
* গর্ভকালীন মায়ের দেহে লৌহের বর্ধিত চাহিদা থাকে।
* খাবারে কম পরিমাণে লৌহ গ্রহণ। কারণ-
-গর্ভকালীন বমি বমি ভাব ও ক্ষুধামন্দা।
-ভুল খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অপ্রতুল ধারণা।
-অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা।
* কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে লৌহের চাহিদা বাড়ার জন্য। যেমন-
-যেসব মায়েরা গর্ভে জমজ শিশু ধারণ করেন।
-অল্প সময়ের ব্যবধানে গর্ভবর্তী হলে।
* প্রসূতি, গর্ভবর্তী হওয়ার আগে থেকেই লৌহ স্বল্পতায় ভুগলে। যেমন-
-দরিদ্রতা ও অপুষ্টি।
-কিছু অসুখ পাইলস, কৃমির আক্রমণ, ম্যালেরিয়া, জন্মগত রক্তশূন্যতা, হাড়ের মজ্জার অসুখ ইত্যাদি।

রক্তশূন্যতার লক্ষণ
০ শরীর দুর্বল লাগা ও অল্প কাজে ক্লান্ত হওয়া।
০ কোনো কাজে মনোযোগ না বসাতে পারা।
০ মাথা ঝিমঝিম করা।
০ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া ও চোখ সাদা হয়ে যাওয়া।
০ ক্ষুধামন্দা ও বদহজম হওয়া।
০ জিহ্বা ও মুখে ঘা হওয়া।
০ রক্তশূন্যতা বেশি হলে বুধ ধড়ফড় করা, শ্বাস কষ্ট হওয়া এবং বেশি আকারে পা ফুলে যাওয়া।

যা করণীয়
লৌহসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, যেমন- কচুশাক, কাঁচাকলা, পেয়ারা, শিম, মটরডাল, বাঁধাকপি, কলিজা, গোশত, খোলসওয়ালা মাছ যেমন চিংড়ি মাছ।

ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে লৌহঘটিত রক্তশূন্যতা নিশ্চিত হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা। প্রাথমিকভাবে সাধারণত ডাক্তার আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন তবে কিছু ক্ষেত্রে আয়রন ইনজেকশন এমনকি রক্ত পরিসঞ্চালনেরও দরকার হতে পারে।
আয়রন ট্যাবলেট খেলে পায়খানার রং কালো হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই; এটা স্বাভাবিক। আবার এর জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে সে ক্ষেত্রে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। দেখা গেছে- চা, কফি, এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ লৌহ শোষণে বাধা দেয়। তাই এগুলো আয়রন ট্যাবলেট আশপাশের সময়ে না খাওয়া উচিত।

রক্তশূন্যতার ক্ষতিকর প্রভাব
মায়ের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব-
-শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, মাথা ঝিমঝিম করা ও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
-গর্ভকালীন এবং প্রসব-পরবর্তী ইনফেকশনের আশঙ্কা।
-নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শিশু প্রসব হওয়া।
-রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে এমনকি হার্ট ফেইলিউর হওয়ার সম্ভাবনা।
-প্রসব-পরবর্তী রক্তপাত হওবার সম্ভাবনা।
-দুগ্ধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া।
-দীর্ঘস’ায়ী রুগ্‌ণতার সৃষ্টি হতে পারে।
শিশুর জন্য ক্ষতিকর প্রভাব
-ভ্রূণের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
-অপরিপক্ব শিশু প্রসব হওয়া।
-শিশুর ওজন কম হওয়া।
-জন্মের আগেই জরায়ুর মধ্যে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।
তাই গর্ভকালীন লৌহের অভাব যাতে না ঘটে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নতুবা তা মা ও শিশুর জীবনের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কারণ আমাদের কাম্য- সুস’ মা, সুস’ শিশু।

লেখিকা : অধ্যাপিকা ডা: শায়লা শামীম, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।