সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

গরমে আরামে ঘুমাতে চাইলে…

গরমে আরামে ঘুমাতে চাইলে...

এই গরমের সময় দিনটা তো নানা কাজকর্মে কেটে যায়। কিন্তু রাতে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। রাতে বিশ্রাম নেবার সময়েই যদি অস্বস্তি হয় আর গরম লাগে? এ জন্য ঘুমের সমস্যা যেমন দেখা দেয় তেমন আরও নানা কারণে দুর্ভোগ যেন চরমে ওঠে। আসুন জেনে নেই, এই গরমের মাঝে কি করে একটু আরামে ঘুমাতে পারবেন।

১. ঘুমাবার আগে ভালো করে গোসল করে নিন। পানির স্পর্শ শরীরের মাংসপেশীকে শিথীল করে, দেহমনে ছড়িয়ে পড়ে একটা আরামদায়ক আমেজ। ঘুমাতে যাবার আগে একটা আরামদায়ক গোসল আপনাকে দেবে একটা শান্তির ঘুম।

২. গোসল না করলেও ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে নিন। এবং একদম পাতলা আর ঢিলেঢালা পোশাক পরুন ঘুমাতে যাবার জন্য।

৩. যাদের সিলিং ফ্যানের নিচেও গরম লাগে, তারা একটি স্ট্যান্ড ফ্যান বা টেবিল ফ্যান কিনে নিন (এসির বিকল্প হিসেবে এগুলো দারুণ কার্যকর)। আর বিদ্যুৎ চলে গেলে জানালাগুলো খুলে দিন। পর্দা টানা থাকলেও খোলা জানালা দিয়ে বাতাস প্রবেশ করবে ঘরে।

৪. বিছানার চাদর রোজ রাতে বদলে নিন। পরিষ্কার বিছানা মনে এক রকমের প্রশান্তি তৈরি করে। আর প্রশান্ত মনে ঘুম ভালো হয়। সুতির চাদর হলেই ভালো।

৫. ফোমের বিছানায় গরম বেশি লাগে। তাই জাজিম ও তোশক ব্যবহার করুন। ফারের বালিশের বদলে শিমুল তুলার বালিশে দিন মাথা। তবে একেবারে ফ্লোরে মাদুর বিছিয়েও ঘুমাতে পারেন। প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও কয়েকদিনে অভ্যাস হয়ে গেলে দারুণ আরাম পাবেন।

৬. ঘরের জানালায় হালকা বা পাতলা পর্দা ব্যবহার করুন। তাতে ঘরে বাতাস চলাচল ভালো হবে আর আপনিও ঘুমাতে পারবেন শান্তিতে।

৭. যাদের খুব বেশি ঘেমে যাবার প্রবণতা তারা ট্যালকম পাউডার মেখে নিন শরীরে। মেনথল ফ্লেভারের পাউডারও বেশ আরাম দেবে। ঘেমে নেয়ে থাকলে তো এমনিতেই ঘুম হবে না।

৮. ঘুমাবার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন রাতের খাবার। এমন কিছু খাবেন না যাতে পাকস্থলীতে অস্বস্তি হয় বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এই গরমে বিকালের পর চা কফি না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে উষ্ণ দুধ খান বা কোনো হালকা শরবত বা জুস।

৯. অনেকে সন্ধ্যায় বা রাতে ব্যায়াম করেন। এই গরমে সেটা না করাই ভালো। করতে হলে ব্যায়ামের পর ভালোভাবে গোসল করুন ও পোশাক বদলে নিন।

১০. গরমের দিনে এক বিছানায় বেশি মানুষ ঘুমাতে ভালো লাগে না, অস্বস্তি হয়। চেষ্টা করুন একটু নিরিবিলি ঘুমাবার। সেটা সম্ভব না হলে পাশের মানুষ ও আপনার মাঝে একটি কোল বালিশ রাখতে পারেন।

১১. আপনার বাড়ির ভেতরের সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য যদি বেশি হয় তাহলে বুঝতে হবে গরম বাতাস বাড়ির ভেতর আটকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। এতে ভেতরের গরম বাতাস বের হয়ে যাবে। ফলে ঘর ঠাণ্ডা হবে। বিশেষ করে রান্নাঘরে অবশ্যই একজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন।

১২. বেশি করে পানি পান করুন। গরমের সময় বাড়তি পানি আপনাকে সুস্থ থাকতে ও আরামে ঘুমাতে সহায়তা করবে।