সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ক্যান্সার কী – ক্যান্সার সম্পর্কে জানুন

ক্যান্সার মাত্র একটি রোগ নয়, এটি একধরনের জটিল ব্যাধির গোষ্ঠী। কোটি কোটি কোষ নিয়ে আমাদের দেহ গঠিত। ক্যান্সারের সূচনা একটি কোষ থেকে। পরে একটি ক্যান্সারগ্রস্ত কোষ থেকে দুটি কোষ, দুটি থেকে চারটি কোষ—এভাবে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন শুরু হয়ে যায় এবং বিরামহীনভাবে তা চলতেই থাকে।

ফলে অচিরেই সেখানে একটি পিণ্ডের বা টিউমারের সৃষ্টি হয়। ক্যান্সার রোগটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো এই, ক্ষতিকর টিউমার হলে তা শুধু সহনীয়ভাবে আশপাশেই অনুপ্রবেশ করে না, রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী স্থানে গিয়েও নতুন বসতি স্থাপন করে। এভাবে ক্যান্সার কোষগুলো তার উত্পত্তিস্থল থেকে বহু দূরে অন্য কোনো অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তাই যথাসময়ে বিস্তারে বাধা না দিলে ক্যান্সার পরিণামে মৃত্যু ঘটায়।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে
শরীরের যে কোনো অঙ্গেই ক্যান্সার হতে পারে। তবে বাংলাদেশে মুখগহ্বর ও কণ্ঠনালীর ক্যান্সার বেশি। এছাড়া দেখা যায় খাদ্যনালীর ক্যান্সার, লিভারের ক্যান্সার, রক্তে ক্যান্সার, লিল্ফগ্ল্যান্ডের ক্যান্সার ইত্যাদি। মহিলাদের মধ্যে প্রধান ক্যান্সার হলো—জরায়ু মুখের মুখগহ্বর ও স্তনের ক্যান্সার। মহিলাদেরও রক্তের ক্যান্সার, ওভারির ক্যান্সার বর্তমানে বাড়ছে।

ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ
ক্যান্সারের সূচনায় যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় তা হলো,
খুশখুশে কাশি কিংবা ভাঙা কণ্ঠস্বর, সহজে সারছে না এমন কোনো ক্ষত, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, স্তনে বা শরীরের অন্য কোথাও চাকা বা পি ের সৃষ্টি, গিলতে অসুবিধা বা হজমে গ গোল, মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, তিল বা আঁচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

যারা বেশি আক্রান্ত হতে পারে
—বিড়ি, দোক্তা বা ধূমপানে অভ্যস্ত যারা।
—যারা মদ পান করে, চর্বিজাতীয় খাদ্য বেশি খায়।
—যে মা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায় না।
—যাদের বাল্যবিয়ে হয়, বহুবিয়ে হয়।
—যারা অবাধ যৌনঅভ্যাস, ব্যভিচার, পতিতালয়ে যেতে অভ্যস্ত।
—যেসব পুরুষের বহুনারী ভোগ করার অভ্যাস আছে।
—যারা নিঃসন্তান।
—যেসব মহিলা ত্রিশ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তান প্রসব করে।
— যেসব মহিলা বেঁটে ও মোটা।

প্রতিরোধ
ক্যান্সার হলে গতি নাই—এমন ধারণা অনেকের। কিন্তু এখন সে ধারণা সঠিক নয়। ক্যান্সারের চিকিত্সার চেয়ে প্রতিরোধই মূল ভরসা। কারণ ক্যান্সার প্রতিরোধের যেসব নিয়মকানুন, সেগুলো যদি আমরা আন্তরিকভাবে মেনে চলি তাহলে বর্তমানে ৮০-৮৫ ভাগ ক্যান্সারই ঠেকানো সম্ভব।

ক্যান্সার প্রতিরোধে বর্জনীয়
—ধূমপান নিষেধ।
—তামাক চাষ, তামাক পাতায় প্রস্তুত জর্দা, দোক্তা, কিমাম, সুপারি ইত্যাদি নিষেধ।
—মদপান নিষেধ।
—অত্যধিক চর্বি বা অধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য এবং যখন-তখন খাওয়ার অভ্যাস পরিহার।
—শরীরের বাড়তি ওজন কমানো।
—বাল্যবিয়ে বন্ধ করা।
—বহুস্বামী, অবাধ যৌনসঙ্গম ও পতিতাবৃত্তি ত্যাগ করা।
—বিশ বছরের নিচে বিয়ে থেকে বিরত থাকা।
— ঘনঘন অধিক সন্তান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
—যেসব খাবারে আঁশ বেশি, যেমন—ঢেঁকিছাঁটা চাল, লাল চাল, লাল আটা, ছাতু, শাকসবজি এবং ফল—এগুলো বেশি খেতে হবে।
—ভিটামিন-এ আছে এমন খাবার—যেমন সবুজ শাকসবজি, হলুদ সবজি ও ফল, মিষ্টিআলু, গাজর, ছোট মাছ (মলাঢেলা), দুধ এবং ফল প্রচুর পরিমাণে আহার করতে হবে।
—ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি ও শালগম খেয়ে ক্যান্সার ঠেকানো যায়।
—বিয়েশাদী এবং প্রথম সন্তান ধারণ ত্রিশ বছরের আগেই সম্পন্ন করতে হবে
—পরিমিত আহার ও হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর হালকা-পাতলা রাখতে হবে।
—শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
—ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
—অত্যধিক সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব, অসময়ে রক্তস্রাব, দৈহিক মিলনের পর রক্তস্রাব এবং ঋতু বন্ধের পর হঠাত্ রক্তস্রাব দেখা দিলে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
—প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে।