সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

কোমর ব্যথা ও কিডনি রোগ

প্রায় প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক (কখনও বা অল্পবয়স্ক) নর-নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমরের ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বিশেষ করে কিডনি রোগ বহির্বিভাগে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাধারণত কিডনি রোগ বহির্বিভাগে আসা এসব কোমরে ব্যথার রোগীদের বেশিরভাগেরই প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিডনি রোগের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমরে ব্যথা কিডনি রোগের উপসর্গগুলোর একটি হলেও এর আরও অনেক কারণ রয়েছে। কিডনি রোগই এর একমাত্র কারণ নয়। আবার রোগ-ভেদে কোমরে ব্যথার তীব্রতারও তারতম্য হয়ে থাকে। তাই কোমরে ব্যথা মানেই কিডনি রোগ—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।

কোমরে ব্যথার কারণগুলো
কিডনি রোগ ও মেরুদণ্ডের হাড়ের কোনো সমস্যা ছাড়াও কোমরের ব্যথার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে নিচের রোগগুলোর উপসর্গ হিসেবে রোগীরা কোমরের ব্যথায় বেশি ভুগে থাকেন—

  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত শারীরিক ওজন।
  • মেরুদণ্ডের হাড়ের সমস্যা। যেমন : হাড় ক্ষয়ে যাওয়া, হাড়ের প্রদাহ, হাড়ে আঘাত পাওয়া, হাড়ের টিউমার, হাড়ের টিবি রোগ ইত্যাদি।
  • মেরুদণ্ডের দু’পাশ্বের মাংসপেশীতে চোট পাওয়া (বিভিন্ন কারণে)।
  • অসমান জুতো-সেন্ডেল যেমন হাই হিল (১ ইঞ্চির বেশি) ব্যবহার করা।
  • মহিলাদের জরায়ুর নানা সমস্যা যেমন : জরায়ুতে প্রদাহ, জরায়ুর টিউমার ইত্যাদি।
  • মূত্র নালীতে প্রদাহ কখনওবা কিডনিতে প্রদাহ।
  • কিডনিতে অথবা মূত্রনালীতে পাথর।
  • কিডনি টিউমার বা সিস্ট।
  • আকস্মিক কিডনি বিকল রোগ।
  • ধীরগতির বা দীর্ঘ মেয়াদি কিডনি রোগ।
  • কিডনির নিকটবর্তী অন্য কোনো অঙ্গের টিউমার, প্রদাহ, পাথর ইত্যাদি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষাসমূহ
কোমরের ব্যথার জন্য প্রাথমিকভাবে নিচের পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে
— TC. DC. ESR, HB%
— URINE-R/M/E
— S. CREATININE
— ULTASONOGRAM OF WHOLE ABDOMEN
— X-RAY KUB
— X-RAY LUMBO-SACRAL SPINE-B/V

ওপরের পরীক্ষাগুলোর কোনোটিতে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোমর ব্যথা হলে করণীয়
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না থাকলে বা কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বল্প-মাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। আবার কখনও ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপিরও প্রয়োজন হতে পারে। তবে মনে রাখবেন মাত্রাতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সব সময়ই ক্ষতিকারক যা কিডনি বিকল রোগের মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আরও কিছু পরামর্শ
— সমান ও শক্ত বিছানায় ঘুমাবেন।
— ভারি জিনিস তুলবেন না এবং ভারি কাজ করবেন না।
— সামনের দিকে ঝুঁকে কোনো কাজ করবেন না।
— শরীরের ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।
— মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না, বা বসবেন না, সব সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখবেন।
— কখনও হাঁটু ভাঁজ করে কুঁজো হয়ে বসবেন না
— চেয়ারে বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন
— কখনই হাই-হিল জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করবেন না
— চেয়ারে বসে নামাজ পড়বেন।
— টয়লেটে উঁচু কমোড ব্যবহার করবেন।
— চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করবেন।

Category: কিডনি