সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

অস্টিওপোরেসিস

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হতে থাকে। তবে কিছু মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের হাড় এত দ্রুত ক্ষয় হয় যে তাদের পুরো দেহের হাড়ে অজস্র দাগ দেখা দেয়। অস্টিওপোরেসিস হাড়ের এমন এক রোগ, যাতে আক্রান্ত হলে উরু, মেরুদন্ড ও বাহুর সামনের অংশ চির ধরতে পারে। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০৫০ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে মোট অস্টিওপোরেসিস রোগীর ৫০ শতাংশের বাস হবে এশিয়ায়। কেবলমাত্র সিঙ্গাপুরেই ১৯৯৮ সালে উরুতে চির ধরার ঘটনা ১৯৬০ সালের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির বদৌলতে এখন এ অঞ্চলের মানুষ দির্ঘদিন বাঁচে। এটা অবশ্যই ভালো খবর। তবে দীর্ঘদিন বাঁচলেও তাদের বয়স তো আর থেমে থাকে না। এই বিপুলসংখ্যক বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দু-একজনের অস্টিওপোরেসিসের কারণে মেরুদন্ডে চির দেখা দিতেই পারে-এ মন্তব্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান সিনিয়র কনসালটেন্ট ও অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক তান সিয়াং বেংয়ের। এশীয়দের মধ্যে অস্টিওপোরেসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম। এই ঘনত্ব কম হওয়ার কারণ আবার বিবিধ।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া, জীবন যাপনের নিম্নমান, অ্যালকোহল ও সিগারেটে আসক্তি বৃদ্ধি এগুলোর মধ্যে অন্যতম। আর তার চেয়ে বড় বিষয় হল এ অঞ্চলে অস্টিওপোরেসিস ঠিকমতো নির্ণয় ও চিকিত্সাই করা হয় না। হাড়ে ফাটল না ধরা পর্যন্ত এখানে রোগীরা চিকিত্সকের কাছেই যায় না। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একবার কোন হাড়ে চির ধরলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে আশে পাশে আরও চির ধরার আশংকা দেখা দেয়।

অধ্যাপক তান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মেরুদন্ডে ফ্র্যাকচার থাকলে রোগী দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা অনুভব করবে। সে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কুঁজো হয়ে দাঁড়াবে। হাঁটাচলার স্বাচ্ছন্দ্য হারাবে। কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে এবং এর অনিবার্য পরিণতিতে মেরুদন্ডের স্নায়ুর ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে। এ থেকে ভয়ঙ্কর ব্যথা হতে পারে। দেহের কোন অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এক পায়ে অথবা উভয় পায়েই সার্বক্ষণিক সুচের খোঁচার মতো এক ধরনের ব্যথা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্টিওপোরেসিস যে শুধু অনির্ণীত থাকে তা-ই-নয়। এর চিকিত্সাও করা হয় না। আর হলেও হয় ভুল অথবা অপচিকিত্সা।

বিশেষ করে ঘন জনবসতি দেশ- বাংলাদেশ, ভারত ও চীনে প্রায়ই ভাঙ্গা হাড় চিকিত্সা করা হয় বাড়িতে, গতানুগতিক ভুল পদ্ধতিতে। রোগীকে হাসপাতালেই নেয়া হয় না। অধ্যাপক তান বলেন, ‘সঠিক চিকিত্সার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সঠিক রোগ নির্ণয়।