সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

অবসেশনের কারণ ও চিকিৎসা

ocdঅবসেশন বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজ অর্ডার (ওসিডি) রোগটি অনেক পুরনো। গ্রামাঞ্চলে এ রোগটিকে শুচিবায়ু রোগ বলা হয়। অবসেশন রোগটি ছোটবেলাতেই শুরু হয়। মোট জীবনকালে কখনো বাড়ে কখনো কমে। দেখা গেছে, দুই-তুতীয়াংশ অবসেশনের রোগী ডিপ্রেসনে আক্রান্ত হয়। এটি একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি। অবসেশন রোগে একই চিন্তা বারবার মাথায় আসে। একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা দেয়, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

বারবার একই জিনিস চেক করা, পারফেক্ট থাকার ইচ্ছা। সব কাজ নির্ধারিত সময়ে করার প্রবণতা প্রভৃতি উপসর্গ হিসেবে পাওয়া যায়। প্রতি ৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন ও প্রতি ১০০ জন শিশু-কিশোরের একজন অবসেশন রোগে আক্রান্ত থাকে। অবসেশন রোগীদের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ সঠিক চিকিৎসাপ্রাপ্ত হয়। এত কম হওয়ার কারণ আক্রান্ত রোগীরা এটি যে একটি রোগ তা বুঝতে পারেন না, তাই ডাক্তারের কাছে যান না বা রোগের কথা প্রকাশ হয়ে পড়লে লজ্জা পাবেন এই ভয় করেন, যা একদম ঠিক নয়।

অবসেশনের কারণ

ওসিডি বা অবসেশন মূলত শৈশবকালের বিভিন্ন আচরণ থেকে বিকাশ লাভ করে বলে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন তাদের ধারণা, শিশুর নানা আচরণগত দিক শৈশবকালেই দুর্বল হয়ে যায়।

এ ছাড়া নিচের ফ্যাক্টরগুলোর সাথে অবসেশনের সুস্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে

মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটনিনের কমতি অবসেশনের কারণ বলে মনে করা হয় ষ বংশগত কারণ ষ মস্তিষ্কসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ষ মস্তিষ্কের কার্যক্রমের জটিলতা ষ শৈশবকালীন ইনফেকশন বা সংক্রমণের অবসেশন হওয়ার একটা কারণ ষ বাল্যকালের শুভ কিংবা অশুভ অভিজ্ঞতা ষ অবচেতন মনের বিভিন্ন রকম কার্যক্রমের ব্যাঘাত ও কিছু চিন্তাগত সমস্যা।

অবসেশনের চিকিৎসা

অবসেশনের রোগীরা তাদের উপসর্গগুলো কারো কাছে এমনকি ডাক্তারের কাছেও বলতে চান না। বরং মানুষের সামনে উপসর্গ যেন প্রকাশ হয়ে না পড়ে সেজন্য সচেষ্ট থাকেন। তারা মনে করেন, এটি তার দুর্বলতা। পৃথিবীর আর কোনো মানুষের এ রোগ নেই। তাই তার মনের গভীরে লুকানো এলোমেলো চিন্তা বা মনে মনে সে পাপ করছে বলে মনে করে। রোগীর ধারণা এই পাপের কথা কি বলা যায়?

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অবসেশন রোগটি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

অবসেশন রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক উন্নত ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। যেমন ট্রাইসাইকিক বিষণœতারোধী ওষুধ ‘কমিপ্রামিন’ সিলেকটিভ সেরোটনিন রি-আপটেক ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ-ফুক্সেটিন, সারট্রালিন, ফুভাক্সামিন, পেরোক্সিটিন ইত্যাদি।

তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কমিপ্রামিন’ হচ্ছে এ রোগের সবচেয়ে ভালো ওষুধ। এ ছাড়া আরেকটি অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে, যার নাম বিহেভিয়ার থেরাপি। এই পদ্ধতিতে চিন্তার উদ্দীপনা বন্ধ করার উপায় অবলম্বন করা হয়। আবার যেটাতে বেশি চিন্তা হয় সে কাজটি বেশি করে করতে বলা হয়। এতে করে রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তাই আর দেরি নয়, আজই আপনার সমস্যার কথা জানিয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।